খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক, ১৪৩৩

রাশিয়ার তেল কিনলে নিষেধাজ্ঞা নয়, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে স্বস্তিতে মস্কো

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রাশিয়ার তেল কিনলে নিষেধাজ্ঞা নয়, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে স্বস্তিতে মস্কো

যোগফল প্রতিবেদক: 

রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের বিধান স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে শুক্রবার এ-সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছে রাশিয়া। অন্যদিকে, সিদ্ধান্তটি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে ইউক্রেন।

হোয়াইট হাউস প্রকাশিত নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প জানান, ‘লিন্ডসে গ্রাহাম অ্যাক্ট’-এর আওতায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্কের প্রয়োগ নির্দিষ্ট শর্তে মওকুফ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি মার্কিন কংগ্রেসে একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যেখানে এই ছাড়কে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে কীভাবে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাম্প বা তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তারা পরবর্তী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

কেন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেন ট্রাম্প?

মার্কিন কংগ্রেসে ব্যাপক দ্বিদলীয় সমর্থনে গত মাসে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম অ্যাক্ট’ অনুমোদিত হয়। বিলটির পৃষ্ঠপোষক প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে।

আইনটিতে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মার্কিন শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছিল। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। রাশিয়ার জ্বালানি তেলের বড় আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত ও তুরস্ক।

এ ছাড়া রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক এবং ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাঙ্কার বহরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও ছিল বিলটিতে।

বিল অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প তা স্থগিত করলেন।

এর আগে গত সপ্তাহে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে সম্মত হন ট্রাম্প। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।

এদিকে ইরান যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখার বিষয়টিও প্রশাসনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত বিলের সহপ্রণেতা ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এই অব্যাহতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার কোনো সম্পর্ক নেই; বরং এটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সন্তুষ্ট করার প্রচেষ্টা।

সিদ্ধান্তে খুশি রাশিয়া

নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত আইনটির প্রয়োগ স্থগিতের সিদ্ধান্তকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে মস্কো।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ক্রেমলিনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতার পথ আরও সুগম করবে।

দিমিত্রিয়েভের দাবি, আইনটি কার্যকর হলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কার্যত স্থবির হয়ে পড়ত। এতে মার্কিন অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাজারও গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়তে পারত।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পারস্পরিক আস্থা জোরদার এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

হতাশ ইউক্রেন, নিষেধাজ্ঞা ফের কার্যকরের আশা

অন্যদিকে, মার্কিন সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি সিদ্ধান্তটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করলেও সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেননি।

জেলেনস্কি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা লিন্ডসে গ্রাহাম আইনকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেছে। অথচ এই আইন রাশিয়ার ওপর সত্যিকারের কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারত।’

তবে ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার কার্যকর হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, আইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত এবং এখনো পারে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সোচ্চার হতেও ইউক্রেনের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

নাটোরে ৯০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নাটোরে ৯০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নাটোরের লালপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক বিক্রির নগদ ১৮ হাজার টাকা ও পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন, মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার জবের প্রামাণিকের ছেলে মান্টু মিয়া (৫৫) ও তার স্ত্রী নারগিছ খাতুন (৫০)।

লালপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে নারগিছ খাতুনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মাদক বিক্রির নগদ ১৮ হাজার টাকা ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার নারগিছ খাতুনের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় ২০২১ ও ২০২৪ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, তার স্বামী মান্টু মিয়ার বিরুদ্ধেও ২০২৩ সালে একই আইনে একটি মামলা রয়েছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সৌদি আরবের দাম্মাম ও জেদ্দা রুটে ফ্লাইট চালু করল বিমান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সৌদি আরবের দাম্মাম ও জেদ্দা রুটে ফ্লাইট চালু করল বিমান

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন রুটে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জেদ্দা রুটেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা করবে সংস্থাটি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মামের উদ্দেশে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। এসব ফ্লাইট পরিচালনায় বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে।

এদিকে, ২২ অক্টোবর ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবর প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে একটি করে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে।

অন্যদিকে, মদিনাগামী ফ্লাইটের কার্যক্রম নিয়মিত রয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ রুটে ফ্লাইট চলাচল ও সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তিতাসে দুই গ্যাসকূপ খননে ব্যয় ৫৯২ কোটি টাকা, মিলবে দৈনিক ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাসে দুটি নতুন অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামের কূপ দুটি খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। কূপ দুটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট বা ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

‘তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পেট্রোবাংলার কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং বিজিএফসিএলের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

১০ বছরে মিলতে পারে ১০০ বিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, নতুন দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কূপ দুটি থেকে দৈনিক ১৮ ব্যারেল কনডেনসেটও পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, নতুন কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে। দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

আব্দুল মান্নান আরও জানান, ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপর ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন কূপ দুটি থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে।

বিজিএফসিএলের বর্তমান উৎপাদনস্থলের মূল্য বা ওয়েলহেড প্রাইস বিবেচনায় গ্যাস ও কনডেনসেটের মোট আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং কনডেনসেটের মূল্য ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের দাম বিবেচনায় একই সময়ে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

তিতাস থেকে দৈনিক উৎপাদন ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট

বর্তমানে বিজিএফসিএলের ছয়টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে পরিচালিত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নতুন কূপ খননের প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার জন্য বিজিএফসিএল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেডকে নিয়োগ দিয়েছিল। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে ১৬টি নতুন কূপ এবং সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে।

স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের সরকারি পরিকল্পনার আওতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে কূপ দুটি খনন, দেশি ও বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ করা হবে।

ব্যয় কমেছে ৪০ কোটি টাকা

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ২০২৬ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে। পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলএনজি আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্পোন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) ২০২৬ সালের ১৮ জুনের সভায় প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে প্রকল্পের ব্যয় ৫৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম